Saturday, February 21, 2026
HomeBreaking News“জঙ্গলমহলের প্রতি বঞ্চনা” মকর পরবে স্কুল খোলা, ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ জঙ্গলমহলের সংস্কৃতিকে...

“জঙ্গলমহলের প্রতি বঞ্চনা” মকর পরবে স্কুল খোলা, ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ জঙ্গলমহলের সংস্কৃতিকে অগ্রাহ্য

Oplus_16908288
পুরুলিয়া:লোকাল ফেস্টিভেল ছুটি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে জঙ্গলমহলের মানুষের সংস্কৃতি ও আবেগকে উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। পৌষ সংক্রান্তি তথা মকর পরবের দিন পুরুলিয়া জেলায় সরকারি ভাবে প্রাথমিক স্কুল খোলা থাকলেও বাস্তবে কোথাও ফাঁকা শ্রেণিকক্ষে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।
Oplus_16908288
অতীতে কেউ মনে করতে পারছেন না মকর সংক্রান্তির দিনে এই জেলায় স্কুল খোলা ছিল। অথচ চলতি বছরে সেই রেওয়াজ ভেঙে ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করল পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর। জেলার অধিকাংশ স্কুলই কার্যত বন্ধ ছিল, কোথাও তালা খুলে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও ছাত্রছাত্রী ছিল শূন্য। পরিসংখ্যান বলছে, পুরুলিয়া জেলায় মোট প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ৩০৬৪টি, শিক্ষক ৭৬৩৪ জন এবং ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৪১ হাজার। কিন্তু উৎসবের দিনে গোটা জেলায় এমন একটি স্কুলও দেখানো যাবে না, যেখানে একজন ছাত্রও উপস্থিত ছিল!
Oplus_16908288
এমনটাই দাবি শিক্ষক সংগঠনগুলির।
যখন গোটা দেশ জুড়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব পালিত হচ্ছে, রাঢ় বাংলার মানুষ টুসু ও মকর পরবে মেতে উঠেছেন। পুরুলিয়ার পাশাপাশি বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রাথমিক স্কুল বন্ধ থাকলেও শুধুমাত্র পুরুলিয়ায় ছুটি বাতিল হওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
Oplus_16908288
ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্তকে কার্যত উপেক্ষা করে বহু জায়গায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলের তালাই খোলেননি। ফলে খাতায়-কলমে স্কুল খোলা থাকলেও বাস্তবে পড়াশোনা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে। তাহলে কিসের স্বার্থে এই ‘কাগুজে উপস্থিতি’ এই প্রশ্নই উঠছে।
বিজেপির অভিযোগ, মিড-ডে মিলের চাল ও বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির হিসেব মেলাতেই উৎসবের দিন স্কুল খোলা রাখা হয়েছে। জেলার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,
“জঙ্গলমহলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব মকর পরবে ছুটি নেই, অথচ অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগেভাগেই একাধিক দিন ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এটা হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি চরম অবহেলা। এর পিছনে রাজনৈতিক অঙ্ক রয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “আজকের দিনে বা মনসা পুজোর দিনে শতভাগ ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসবে না এটা সকলেই জানে। তবুও মিড-ডে মিলের হিসেব দেখানোর জন্য এই নাটক।”
Oplus_16908288
অন্যদিকে, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সমরজিৎ মাহাতো বলেন,
“আগে এই দিনে ছুটি ছিল। কোথাও একটা ত্রুটি হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, যাতে আগামী বছর থেকে মকর সংক্রান্তির দিনে ছুটি থাকে।”
জেলা শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, রাজ্য থেকে দেওয়া ছুটির তালিকায় জেলার হাতে মাত্র একটি ঐচ্ছিক ছুটি ছিল, যা আগেই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরের দিন ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজ্যকে আগাম জানানো হলেও কোনো নির্দেশ আসেনি।
সব মিলিয়ে, মকর পরবের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবে স্কুল খোলা রেখে ছাত্রছাত্রীশূন্য শ্রেণিকক্ষই তুলে ধরল এক গভীর বাস্তবতা। সরকারের এই মনোভঙ্গিমার তীব্র বিরোধিতা করে মানভূম সংস্কৃতি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জোরদার আন্দোলন করা হবে বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে পুরুলিয়ার মানুষের কাছে
এটা শুধুই ছুটির প্রশ্ন নয়, জঙ্গলমহলের সংস্কৃতি, অনুভূতি ও পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের বঞ্চনারই প্রতিফলন বলেও দাবি করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular