


যখন গোটা দেশ জুড়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব পালিত হচ্ছে, রাঢ় বাংলার মানুষ টুসু ও মকর পরবে মেতে উঠেছেন। পুরুলিয়ার পাশাপাশি বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রাথমিক স্কুল বন্ধ থাকলেও শুধুমাত্র পুরুলিয়ায় ছুটি বাতিল হওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
বিজেপির অভিযোগ, মিড-ডে মিলের চাল ও বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির হিসেব মেলাতেই উৎসবের দিন স্কুল খোলা রাখা হয়েছে। জেলার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,
“জঙ্গলমহলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব মকর পরবে ছুটি নেই, অথচ অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগেভাগেই একাধিক দিন ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এটা হিন্দু সংস্কৃতির প্রতি চরম অবহেলা। এর পিছনে রাজনৈতিক অঙ্ক রয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “আজকের দিনে বা মনসা পুজোর দিনে শতভাগ ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসবে না এটা সকলেই জানে। তবুও মিড-ডে মিলের হিসেব দেখানোর জন্য এই নাটক।”
“আগে এই দিনে ছুটি ছিল। কোথাও একটা ত্রুটি হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, যাতে আগামী বছর থেকে মকর সংক্রান্তির দিনে ছুটি থাকে।”
জেলা শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, রাজ্য থেকে দেওয়া ছুটির তালিকায় জেলার হাতে মাত্র একটি ঐচ্ছিক ছুটি ছিল, যা আগেই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরের দিন ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজ্যকে আগাম জানানো হলেও কোনো নির্দেশ আসেনি।
সব মিলিয়ে, মকর পরবের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবে স্কুল খোলা রেখে ছাত্রছাত্রীশূন্য শ্রেণিকক্ষই তুলে ধরল এক গভীর বাস্তবতা। সরকারের এই মনোভঙ্গিমার তীব্র বিরোধিতা করে মানভূম সংস্কৃতি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জোরদার আন্দোলন করা হবে বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে পুরুলিয়ার মানুষের কাছে
এটা শুধুই ছুটির প্রশ্ন নয়, জঙ্গলমহলের সংস্কৃতি, অনুভূতি ও পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের বঞ্চনারই প্রতিফলন বলেও দাবি করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

