পুরুলিয়া: সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যে সাংবাদিক নিজের জীবন বিপন্ন করে একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন—তারই এক উজ্জ্বল নজির গড়লেন পুরুলিয়া শহরের পরিচিত সাংবাদিক আনন্দ মহেশ্বরী।
গত বুধবার পুরুলিয়া শহরের কপূরবাগান এলাকায় একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, মুহূর্তের মধ্যে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও ধোঁয়া। আতঙ্কিত মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছিল কারখানার একটি অংশ। সেই সময় আগুনে পুড়তে থাকা এক ব্যক্তির আর্তনাদ ভেসে আসে। পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। যে কোনো মুহূর্তে আরও বিস্ফোরণের আশঙ্কা ছিল। এমন সময় ক্যামেরা ও বুম ফেলে রেখে এক মুহূর্ত দেরি না করে আগুনের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন আনন্দ মহেশ্বরী। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি আহত ব্যক্তিকে টেনে বাইরে নিয়ে আসেন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাঁর এই তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান ওই ব্যক্তি। অনেকেই বলেন, “সাংবাদিকরা শুধু খবর করেন না, প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ান—আজ তার প্রমাণ মিলল।”
ঘটনার পর এলাকায় আনন্দ মহেশ্বরীর সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাধারণ মানুষ। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের কুর্নিশ জানানো হয়েছে।
সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি প্রমাণ করলেন—সত্যিকারের নায়ক শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও জন্ম নেন। পুরুলিয়ার এই সাহসী সাংবাদিককে জানাই স্যালুট ও কৃতজ্ঞতা।
