অরবিন্দ মাহাতো, পুরুলিয়া :- করম পরবের প্রস্তুতি জাওয়া ওঠানোর মধ্য দিয়ে শিখ শিখর নাগপুর তথা তামাম ছোটনাগপুর জুড়ে শুরু হয়। এই কৃষি উৎসবকে কেন্দ্র করে মেতে উঠে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, ছত্রিশগড় সহ সুদুর আসামের মানুষজন। সাতদিন ধরে বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম হওয়ার উৎসব গ্ৰামে গঞ্জে আদিবাসী- অআদিবাসী মূলত কৃষিজিবি মানুষের মনে দামামা বাজায়। যা শেষ হয় ধমসা মাদৈল নাচ ও গীতের মধ্য দিয়ে। কৃষির অপরূপ আবিষ্কার ধ্বনিত হয় আকাশে বাতাসে।
জানা যায়, পুরুলিয়া জেলার ছোট-বড় প্রায় ২০০০ এরও বেশি গ্রামে “করম পরব ” কে কেন্দ্র করে সমস্ত আচার নেগাচার মেনে কুমারী মেয়েরা জাওয়া পাতায়।
পুরুলিয়ার সংস্কৃতি বিশ্লেষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারা যায়, ছোটনাগপুর এলাকার কৃষি সভ্যতার সাথে যুক্ত মানুষজনদের অতি প্রাচীন (কয়েক হাজার পুরাতন) এই সংস্কৃতি রক্ষার্থেই প্রতিবছরই এলাকায় এলাকায় পরম্পরাগত রূপ নিয়ে উদযাপিত হয় এই পরব। তবে এখন বিভিন্ন মঞ্চে আনুষ্ঠানিক রূপেও করম পরব উদযাপন করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শুধুমাত্র পুরুলিয়াতেই নয় পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন জেলাতে ও ভিন রাজ্য ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, আসামেও কৃষি সভ্যতার সূচনার এই উৎসব পালন করা হয় গ্রামে গ্রামে।
অঙ্কুরোদগমের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক রূপ দিয়ে সভ্যতার বিকাশে তা কতটা তাৎপর্যপূর্ণ তা বিকশিত হয় করম নাচ ও গীতের মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে করম গীতের মধ্য দিয়ে মেয়েরা নিজেদের জীবনের সুখ দুঃখের কাহিনী সম্পূর্ণ বর্ণনা করে।
এক কথায় কৃষি সভ্যতার সাথে যুক্ত মানুষজনদের জীবন-জীবিকা ও প্রাচীন কালের ইতিহাস সহ সভ্যতার সূচনাতে কৃষকদের চিন্তা ধারা কি ছিল এবং বর্তমান সময়ে কি আছে তা উল্লেখিত হয় এই করম উৎসবের মধ্য দিয়ে। ব্যক্তিগত সুখ দুঃখকে বাইরে রেখে জনসাধারনের এই সার্বজনীন উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় এবছরও কোন খামতি থাকছে না করম আখড়ার আসরে।
