পুজোর মুখে কুড়মিদের আন্দোলনে ছন্দপতন হতে পারে স্বাভাবিক জনজীবন, রেলের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি
জঙ্গলমহল দর্পণ, পুরুলিয়া:- আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তপশিলি উপজাতি তালিকাভূক্তির দাবীতে রেল অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে “আদিবাসী কুড়মি সমাজ” নামে কুড়মি জনজাতির একটি সামাজিক সংগঠন। তাদের পক্ষ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলি যেমন পুরুলিয়া, আদ্রা, কোটশিলা, বরাভুম সহ আরও বহু স্টেশনে এই অবরোধ কর্মসূচির লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এরপর বুধবার রেলের পক্ষ থেকে এই অবরোধ না করার জন্য সরাসরি অনুরোধ জানানো হয়। আদ্রা ডিভিশনের তরফ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “রেল চলাচলে বাধা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি অসাংবিধানিক কার্যক্রম। যদি এরকম অবরোধ কার্যকর করা হয়, তবে রেলের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট একটি রায়ে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, কোন দাবি পূরণের জন্য রেল অবরোধ করা অসাংবিধানিক। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টেরও রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, জনসেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা যেমন রেল চলাচল বন্ধ করা আইনসিদ্ধ নয়।
রেলের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, “এই ধরনের অবরোধ হলে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে পড়বে, যার ফলে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হবে।”
এদিকে, মহালয়ার মুখে এই রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলার ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, একযোগে এতগুলি স্টেশনে রেল অবরোধ কার্যকর হলে পুজোর বাজার সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্প মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে।
সকলের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ ও সুবিন্যস্তভাবে এই বিষয়টি সমাধান করা হোক, যাতে কোনওভাবে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি না হয়। অন্যদিকে আদিবাসী কুড়ি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাতো জানিয়েছেন, কুড়মিদেরকে অসংবিধানিক ভাবে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি নায্য অথচ এতো আন্দোলনের পরও সরকার তাদের দাবি পূরণের কোনো উদ্যোগই নেইনি। তাই বঞ্চনা ও সরকারি উদাসীনতার প্রতিবাদে পুরুলিয়ার প্রায় ৩০ 
জায়গাতে রেল অবরোধের কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়াও পার্শবর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ড ও উড়িষ্যাতেও একযোগে রেল অবরোধ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
