পুরুলিয়া:
একসময়ের পরিযায়ী, আজ অসহায়তার প্রতীক। জঙ্গলমহলের মানবাজার-২ ব্লকের আঁকরো বড়কদম গ্রামে ধসে পড়েছে এক বিকলাঙ্গ শ্রমিকের শেষ আশ্রয়—তার কাঁচা বাড়ি। পঞ্চায়েতের থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বাস করেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি বঞ্চিত থেকেছেন সরকারি সাহায্য থেকে।
তিনি অসিত কর্মকার। একসময় দারিদ্র্যের তাড়নায় ভিনরাজ্যে রোজগারের খোঁজে যেতেন। কিন্তু ঘরে ফেরার পর ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। গাছ থেকে পড়ে চিরতরে হারালেন কথা বলা ও চলার ক্ষমতা। সংসার ভেসে গেল অন্ধকারে। চিকিৎসার খরচে সর্বস্বান্ত হয়ে আজ তিনি অচল দেহ নিয়ে পড়ে আছেন ভগ্ন সংসারে। পাশে রয়েছেন কেবল স্ত্রী—পরী কর্মকার। সংসার চলে সামান্য প্রতিবন্ধী ভাতা ও আত্মীয়-স্বজনের করুণার টুকরো টাকায়।
বছরের পর বছর আবাস যোজনার তালিকায় নাম থাকলেও মেলেনি সরকারি বাড়ি। বহুবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও ফল মেলেনি। পরী কর্মকারের চোখ ভিজে আসে—
“আমার স্বামী বিকলাঙ্গ, সংসার ভীষণ কষ্টে চলছে। বাড়ি ভেঙে পড়ায় এখন আমরা আকাশের নিচে অসহায়। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে একটা আশ্রয় দিন।”
অসিতের দাদা বিশ্বনাথ কর্মকারও আক্ষেপ করে বলেন—
“আবাসের তালিকায় নাম থেকেও ভাই এখনও বাড়ি পায়নি। দুঃখে, কষ্টে দিন কাটছে তার।”
পঞ্চায়েত প্রধান লস্করি মান্ডি জানান, এ ঘটনা তাঁর জানা ছিল না। তবে এমন খবর শোনার পর আশ্বাস দেন, “আবাসের তালিকায় নাম থাকলে সরকারি বাড়ি অবশ্যই দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য নেতা পার্সি মুর্মু অভিযোগ করেছেন—
“তৃণমূল নেতারা এখন নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় নেই তাদের।”






আজ ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের সামনে বসে আছেন অসিত কর্মকার—চোখে অনন্ত শূন্যতা। জঙ্গলমহলের এক প্রান্তে যেন মানবিকতার বড়সড় পরাজয় লিপিবদ্ধ হলো।
